আমার সম্পর্কে

যে ব্যথা রিপোর্টে ধরা পড়ে না — আমি সেটা নিয়েই কাজ করি

MRI স্বাভাবিক, ডাক্তার বলছেন "সিরিয়াস কিছু নেই", অথচ ব্যথাটা রয়েই গেছে। বাড়ির লোক ভাবছে আপনি বাড়িয়ে বলছেন। আমি জানি এই জায়গাটা কেমন — কারণ আমি নিজে এখানে ছিলাম।

সুদীপ্ত কুমার মাইতি

আমার গল্পটা

রোজ ভোর হতে না হতেই অ্যালার্ম বেজে যায় — মন বলে উঠতে হবে, আর শরীর বলে আর একটু। তারপর সারাদিন টার্গেট, মিটিং, ডেডলাইন।

রাতে বাড়ি ফিরে ফ্যামিলি — মেয়েকে একটু টাইম দেওয়া, EMI–Bill–Rent–Daily Expense-এর হিসেব, বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়া। ২০+ বছর ধরে টেলিকম সেক্টরে — এইভাবেই জীবনটা কেটে যাচ্ছিল — এখন DGM, এখনও কর্মরত। তাই আর পাঁচটা দায়িত্বশীল বাঙালি মানুষের জীবন আর আমার জীবনটা আলাদা নয়।

এর মধ্যে কোমরের যন্ত্রণা লেগেই থাকত — Belt পরতাম, Pain killer–Spray নিতাম — কিছুক্ষণ আরাম, তারপর আবার সেই একই কষ্ট। ইতিমধ্যে একটা খুব সহজ আর কার্যকর modality — Emotional Freedom Technique নিয়ে পড়াশোনা আর কাজ করা শুরু করেছিলাম।

একদিন আবিষ্কার করলাম, আমার ওই কোমরের Chronic Pain কেন কমছে না — তার আসল কারণ জীবনের জমে থাকা Stress, Anxiety আর Pressure।

তারপর একদিন সকালে উঠে দেখি বাম কাঁধটা অসম্ভব ব্যথা করছে — হাতটাও বুকের উপরে তুলতে পারছি না — Frozen shoulder।

বাড়িতে বলল ডাক্তার দেখাতে — আমি চুপ করে ছিলাম। তারপর কী মনে হল — নিজে EFT Master Practitioner হিসেবে, নিজের হাত আর কাঁধের উপর EFT প্রয়োগ করলাম। ২ দিন পর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সব স্বাভাবিক। সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীর কাছে গিয়ে হাতটা তুলে দেখালাম। বললাম, "দেখো, ব্যথাটা নেই!"

সেই মুহূর্তে হঠাৎ ভাবলাম — আমার মতো কত মানুষ, আর তাঁদের পরিবার-পরিজন, চুপচাপ এই ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছেন — Medicine, Exercise, Advice সব করেও — আর ভাবছেন হয়তো আর কোনদিন ঠিক হবে না। তাঁদের এই Chronic Pain থেকে বেরোনোর পথ দেখাব না কেন?

সেদিন থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুরু করি। আর দেখলাম — এই নিয়ে অনেক কাজ আছে, কিন্তু বাংলা ভাষায় প্রায় কিছুই নেই। তাই ঠিক করলাম, একজন বাঙালি হিসেবে — পৃথিবীর যত বাংলাভাষী মানুষ আছেন, তাঁদের এই উপায়টা শেখাব। এখন এটাই আমার Mission ও Vision।

আমি থিওরি পড়ে নয় — আগে নিজের শরীরে কার্যকর করে বদলটা অনুভব করেছি, তারপর অন্যদের সাহায্য করা শুরু করেছি।

এখন আমি যা বুঝি

বেশিরভাগ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা শুধু হাড় বা মাংসপেশীর সমস্যা নয়। আমাদের নার্ভাস সিস্টেম বছরের পর বছর ধরে না-মেটানো স্ট্রেস, উদ্বেগ আর পুরনো কষ্টের স্মৃতি ধরে রাখে — একটা "survival mode"-এ আটকে থাকে। শরীর তখন সেই চাপটাকে ব্যথা হিসেবে দেখায়।

এই কারণেই — রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও ব্যথা বাস্তব। এই কারণেই — মানসিক চাপ বাড়লে ব্যথাও বাড়ে। আর এই কারণেই — শুধু ওষুধ বা এক্সারসাইজ দিয়ে আসল জায়গাটায় পৌঁছনো যায় না।

আমি কাদের, কীভাবে সাহায্য করি

আমি সাহায্য করি মধ্যবয়সী (৩০–৫৫) বাংলাভাষী মানুষদের — যাদের কোমর, ঘাড়, কাঁধ, হাঁটু, মাথাব্যথা-মাইগ্রেন, পিরিয়ডসের ব্যথা বা কোনো অজানা কারণের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ডাক্তার দেখিয়েও সারছে না।

প্রশিক্ষণ ও ভিত্তি